এসইও (SEO) নিয়ে ১০ টি মজার ভুল ধারণা

আমি নিজে আমার ব্যাক্তিগত ব্লগের এসইও করি এবং কিছু ক্লায়েন্টকে এসইও সার্ভিস দেই (search engine optimization) তাই অন্যরা যারা এসইও করে তাদের সাথে SEO নিয়ে আলোচনা করতেও পছন্দ করি। কিন্তু আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা নন-টেকি কিংবা এসইও জগতে নতুন। এসইও নিয়ে তাদের জানার আগ্রহের কোনো শেষ নাই! কি করতে হবে কি করতে হবে না, কিভাবে করলে ফল তাড়াতাড়ি আসে এসব নিয়ে কারোই গবেষণার শেষ থাকেনা। আফটারল, SEO is a never ending process! নতুন নতুন আপডেট আসতেই থাকে আর তার সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে যেতে হয়।

 

অনেকদিন ধরে এসইও করছেন বা সার্ভিস দিচ্ছেন এমন অনেকের মাঝেও দেখেছি এসইও নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা পেলে পুষে রেখেছেন। তার মধ্যে ১০ টি ভুল ধারণা নিয়ে এই আর্টিকেল লিখতে বসলাম। তাহলে শুরু করা যাক।

 

১. এসইও এখন আর আগের মতন কাজ করে না ভাই!

  • কেনো করবেনা! অবশ্যই করে। তবে আপনাকে কাজের পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাদের যে হারে আপডেট করছে তার সাথে তাল মিলিয়ে এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলোর পছন্দ অপছন্দগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আপনি কিভাবে আপনার কাজকে আপডেটেড রাখছেন কি না। উত্তর অবশ্যই ”হ্যাঁ” হতে হবে। এর কোনই বিকল্প হবেনা!

 

২. এসইও কেবলই একটা ট্রিকি বিষয়। যেভাবেই হোক সাইটে কেবল বেশি ভিজিটর আনতে পারলেই হয়।

  • ভুল ধারণা। সাইটে ট্রাফিক এনে মিছিল করালেই হবেনা। আপনার ট্রাফিক সোর্স কি এটাও দেখার বিষয়। অন্তত জায়ান্ট সার্চ ইঞ্জিন গুগল এটার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়। তাছাড়া আপনি আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সকে না ডাকতে পেরে যদি যাকে পান তাকেই সাইট ভিজিট করাতে নিয়ে আসেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার ওয়েবসাইট/ পোর্টালের বাউন্স রেট যাবে বেড়ে আর আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাচ্ছিল্য করা শুরু করবে।

 

৩. এসইও?? এইটাতো একবার করে নিলেই হয়। এরপর অটোম্যাটিক চলতে থাকে!

  • এটা আরো মারাত্মক ভুল রে ভাই! এসইও এমন একটা কাজ যা ধারাবাহিকভাবে আপনাকে করে যেতেই হবে যেতেই হবে যেতেই হবে…. এরপর? এরপরও করে যেতেই হবে। ধরুন, ১০ জনকে নিয়ে একটা দৌড় প্রতিযোগীতা হচ্ছে। আপনিও তাদের মধ্যে একজন প্রতিযোগী। দৌড় শুরু হলো আর কিছুক্ষনের মাঝেই আপনি দৌড়ানো অবস্থায় প্রথম অবস্থানে আছেন। কিন্তু আপনি যদি এই ভেবে থাকেন যে আপনি তো প্রথম হয়েই আছেন এবার একটু কম জোরে দৌড়ানো যাক কিংবা দৌড়টা একদম থামিয়েই দেন তাহলে কি হবে? আপনি অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে পরে যাবেন। তাইনা? অনলাইন দুনিয়ায় এসইও ব্যাপারটাও ঠিক তেমন। আপনাকে কম্পিটিটরদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে সার্চ ইঞ্জিনে অপটিমাইজেশনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতেই হবে অনবরত।

 

৪. মেটা ট্যাগ এখন আর কোন কাজই করে না (!)

  • এমনটা ভেবে থাকলে সর্বনাশ করে ফেলবেন! মেটা ট্যাগ ই তো এসইও’র প্রাণ বলা চলে। ইউজার কিভাবে বুঝবেন যে আপনার কন্টেন্ট (হোক অডিও/ ভিডিও/ কন্টেকচুয়াল/ ইমেজ যেটাই) ই তার কাঙ্ক্ষিত কন্টেন্ট/ ইনফরমেশন কি না। বরং মেটা ডেসক্রিপশন নিয়ে কিছু কথা শোনা গিয়েছিলো যে এগুলো গুগল আর ভ্যালু দেয় না তবে আমি মনে করি যেহেতু গুগল এখনো তার সার্চ ইঞ্জিনে মেটা ডেস্ক্রিপশন শো করাচ্ছে অন্তত সেজন্যে হলেও আমাদের এখনই মেটা ডেসক্রিপশনটাকে পরিহার করা উচিৎ হবেনা।

 

৫. কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য বড় হোক বা ছোট হোক, এইটা র‍্যাঙ্কিং য়ের ক্ষেত্রে কোনো বিষয় না।

  • অবশ্যই বিষয়। ইউজার যখন কোনো ইনফরমেশনের জন্য সার্চ করে তখন সে চায় ইনফরমেশনটা প্রপারলি বুঝে পেতে। কিভাবে পায়েস রান্না করতে হয়- এর উপর একটা আর্টিকেল লিখতে গিয়ে আপনি চাইলে ১০-১৫ লাইনেই বলে ফেলতে পারেন। এত শর্ট ইনফরমেশনে ইউজার পরিস্কার ভাবে না বুঝতে পারাই স্বাভাবিক হবে। কিন্তু আপনি যদি একটু বিস্তারিত করে ৫০-১০ লাইনে বুঝিয়ে লিখেন ইউজারের পারপাসটাও সার্ভ হল + ইউজার বেশি সময় নিয়ে আপনার সাইট ভিজিট করার কারণে গুগলের কাছে বা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতাও বৃদ্ধি পেল। যা আপনার পোর্টালের অথরিটি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

 

৬. গেস্ট ব্লগিং পদ্ধতি এখন আর কাজ করে না!

  • কাজ অবশ্যই করে এবং করবে। না করার কোনই মানে নাই! আপনি যদু মধু সাইটে গেস্ট ব্লগিং করলে কি লাভ হবে যদি ওইসব সাইটেরই রেপুটেশন না থাকে। আপনি অবশ্যই চেষ্টা করবেন আপনার চেয়ে ভালো মানের সাইটে গেস্ট ব্লগিং করতে এবং অবশ্যই আপনার নিজের স্বার্থেই তাতে মানসম্মত (পারলে আপনার সাইটের কন্টেন্টের চেয়েও বেশি সুন্দর :p ) লেখা দিবেন। এতে করে ওই সাইটের ভিজিটররা আপনার আর্টিকেল পড়বে এবং খুব সম্ভাবনা আছে ওখান থেকে ভালো মানের ভালো কিছু ট্রাফিক পাবার। তাই এই পয়েন্টটিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রাখবেন।

 

৭. সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে / একটিভ থেকে কোনই লাভ হয়না। এইটা না করলেও ঐ একই :/

  • জ্বি না ভাইজান। আপনি জানেন কি না, গুগল তার পেজ র‍্যাঙ্কিং নামক যে মানদন্ড রেখেছে তা কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার কন্টেন্ট কেমন সিগন্যাল পাচ্ছে- এর উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। যদিও শুনতে আপনার কাছে বোরিং কিংবা খ্যাত খ্যাত শোনাতে পারে তবু যা সত্যি তা তো মেনে নিতেই হবে যে, আপনার কন্টেন্টের লাইক – কমেন্ট এবং শেয়ারের ভিত্তিতে আপনার কন্টেন্টের পেজ র‍্যাংক গুগলের এলগরিদম নির্ধারণ করবে। কাজেই, লাইক কমেন্টস আর শেয়ার পেতে নো হেলাফেলা !

 

৮. আপনি যদি অন্য ওয়েবসাইটের লিংক রাখেন আপনার কন্টেন্টে, তবে আপনি আপনার ট্রাফিক হারাবেন।

  • ধারণা ভুল। আপনি যেমন চেষ্টা করবেন ভালো ভালো রেপুটেড সাইটগুলোতে নিজের একটা ব্যাকলিংক রাখতে, তেমনি আপনার কন্টেন্টের ভেতর নিজেরই অন্য কোন পেজ এর লিংক হাইপারলিংক করে দিলেন তার পাশাপাশি অন্য কোন মুরুব্বি ওয়েবসাইটের রেফারেন্স কথার মাঝে এসে পড়লে ওই সাইটের নামটাও তুলে দিতে পারেন। এতে আপনার ট্রাফিক চলে যাবার ভয় নেই। এসইও করতে হলে অবশ্যই আপনার চিন্তাভাবনা প্রশস্ত হওয়া চাই। তাইবলে আপনি যাকে তাকে মেনশন করে ব্যাকলিংক দিতে যাবেন না -তা কি আর বলে দিতে হবে!

 

৯. গুগল এসইও করা পছন্দ করে না 🙁

  • বলছে আপনেরে! বরং গুগল সবার আগে এই এসইও কেই পছন্দ করে কারণ গুগল এতে পুরোটাই নির্ভরশীল, তাইনা? গুগলের তো আর নিজের চোখ নেই, তাকে যা দেখাবো তা ই দেখবে। এখন এই দেখাবার কাজটাই এসইও করে গুগলকে দেখিয়ে দেই আমরা। এরপর গুগল করে কি, তার প্রাপ্ত ইনফরমেশনের যেগুলোতে ইউজার ইন্টার‍্যাকশন বেশি হয় সেগুলোকে সে প্রাধ্যান্য দেয় তার সার্চ ইঞ্জিনে। কারন যে কন্টেন্টগুলোতে ইউজার ইন্ট্যারাকশন বেশি হয় স্বভাবতই সেগুলো ইউজারদের জন্য বেশি দরকারী বা ইউজাররা এইসব তথ্য খুঁজে পেতেই সার্চ করেছিলেন।

 

১০. আপনার কন্টেন্ট (কন্টেক্সুয়াল কিংবা ইমেজ / ভিডিও) ইউনিক এবং ভালো হলেই তা এমনি এমনি টপ র‍্যাংকড হবে।

  • যেভাবে ভাবছেন আদতে এমনটাই হয়না। একটা ভালো কনটেন্ট আপনাকে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে র‍্যাংক করার একটা ফাউন্ডেশন তৈরি করে দেয় এবং এমন কন্টেন্ট দ্বারা আপনি অনলাইনে মার্কেটিং করে বা ক্যাম্পেইন চালিয়ে ভালো সাড়া পেতে পারেন। কিন্তু যদি চান গুগল আপনাকে প্রায়োরিটি দিক, যদি ভালো রকম অর্গানিক ভিজিটর চান তবে আপনার কাঙ্ক্ষিত সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কন্টেন্টের অপটিমাইজেশনের কোনোই বিকল্প নাই তা গুগল হোক কিংবা ইয়াহু / বিং আর্চ ইঞ্জিন হোক। এসইওর রীতিগত কারিশমা তাতে ফলাতেই হবে।

 

 

 

[MarketRocker এর আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে। নতুন কি বিষয়ে আর্টিকেল পেতে চান জানিয়ে নিচে কমেন্ট করলে চেষ্টা করবো তা নিয়ে লিখতে। এই ব্লগ কারো জানার আগ্রহ, ইচ্ছা- জাগ্রত করলে এবং তার কিছুটাও মেটাতে পারলে আমার চেষ্টা সার্থক হবে]

8

Comments

comments

M M Rizvi Khan

About the Author

M M Rizvi Khan

ফুলফিলমেন্ট বাই আমাজন (FBA) নিয়ে রিসার্চ করছি ২০১৬ এর শুরু থেকে। দীর্ঘ অনলাইন জীবনে কাজ করার নানা রকম বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা আছে। বর্তমানে Amazon FBA'র পাশাপাশি বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। এছাড়াও লেদার ওয়ালেট, বেল্ট ও এক্সেসরিজের জন্য নিজের ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছি।

Read Previous

SEO'র জন্য জানা আবশ্যক গুগলের ২০০ র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর (আপডেটেড) সম্পূর্ণ বাংলায় | Google's 200 Ranking Factors in Bangla | Part 1

অনলাইন দুনিয়ায় ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ভাবতে গিয়ে বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজে আমরা সবাই কমবেশি শুনেছি গুগলের বহুল আলোচিত 200 Ranking ...

Enjoy this blog? Please spread the word :)

error: Content is protected